তথ্য ও পরামর্শ

 
                               

ব্যবসা শুরুর পরামর্শ:
একটি ব্যবসা
প্রতিষ্ঠান শুরু করার পূর্বে উদ্যোক্তাকে প্রথমেই স্থির করতে হবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা গঠনতন্ত্র কিরূপ হবে। আমাদের দেশে নিম্নোক্ত চার ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রচলিত আছে



একটি সফল ব্যবসা শুরু করতে হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা উচিত:
১.    আপনি কি ধরনের ব্যবসা করতে চান সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ব্যবসা হতে পারে: 
•    কেনা- বেচা/ট্রেড (খুচরা - পাইকারী)
•    উৎপাদনমুখী
•    সেবা মূলক
২.    আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কারখানা কোথায় হবে সেই স্থান নির্দিষ্ট করুন।
৩.    আপনি কি এককভাবে নাকি যৌথমালিকানায় ব্যবসা করবেন তা স্থির করুন।   
৪.    আপনার প্রতিষ্ঠানের নাম কি হবে তা স্থির করুন।
৫.    যৌথ ব্যবসা করতে চাইলে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কি ধরনের যৌথ মালিকানা আপনি গ্রহণ করবেন।
৬.    শহর বা গ্রাম যেখানেই আপনার প্রতিষ্ঠান গঠিত হোক না কেন আপনি মিউনিস্যিপাল কর্তৃপক্ষ অথবা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারেন।
৭.    ব্যবসায়ের ধরন এবং পরিধি পর্যালোচনা করে মূলধনের উৎস এবং পরিমান নির্ধারণ করুন।


ব্যবসা নিবন্ধীকরণের গুরুত্ব ও সুবিধা:
বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য ব্যবসা নিবন্ধণ করাটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকার প্রদত্ত সুযোগ সুবিধাগুলো পেতে হলে রেজিষ্ট্রেশন এর প্রয়োজন হয়।

ব্যবসা নিবন্ধীকরণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র :
ক্রমিক নং
এক মালিকানা কারবার   
অংশীদারী কারবারযৌথমূলধনী কারবার(প্রাইভেট লিমিটেড)যৌথমূলধনী কারবার (পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী)

ট্রেড লাইসেন্স
ট্রেড লাইসেন্স
ট্রেড লাইসেন্স
ট্রেড লাইসেন্স


টিন নম্বর
টিন নম্বর
টিন নম্বর


অংশীদারীত্ব দলিল
নাম নিবন্ধীকরন
নাম নিবন্ধীকরন

কোম্পানী রেজিষ্ট্রেশন বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হলোঃ
            ১.ট্রেড লাইসেন্স:
নিম্নলিখিত অফিস থেকে (আপনার ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য) ট্রেড লাইসেন্স ফরম সংগ্রহ করুন।
•    ইউনিয়ন পরিষদ
•    উপজেলা পরিষদ
•    পৌরসভা বা
•    জেলা পরিষদ
•    সিটি করপোরেশন

     *সিটি করপোরেশন এর ক্ষেত্রে
সিটি করপোরেশন থেকে দুই ধরনের ফরম সরবরাহ করা হয় । আপনার প্রতিষ্ঠন যে জোন এর অর্ন্তভূক্ত, ঐ জোনাল অফিস থেকে ক ফরম সংগ্রহ করতে হবে। ক ফরম এর মূল্য ১০ টাকা। এক্ষেত্রে ব্যবসা এর প্রকারভেদ অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্কের ফি (সর্বনিম্ন ১৫০০  ) প্রযোজ্য। ক ফরম এর সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ছবি সহ জমা দেবার পর মূল ট্রেড লাইসেন্স বই সংগ্রহ করা যাবে।

সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্সের ক ফরম এর নমূনা দেখে নিন

      *জেলা বা উপজেলা বা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ এর ক্ষেত্রে
পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারনত একটি ফরমই সরবরাহ বা প্রদান করা হয় এবং সেই ফরমটি মূলত ট্রেড লাইসেন্স ফরম। প্রথমেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, দরখাস্তকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ নির্দিষ্ট ফি (সর্বনিম্ন ১০০ টাকা) প্রদান করে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা যাবে ।

উপজেলা বা পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্স ফরম এর নমূনা দেখে নিন

  ***লাইসেন্স বই বা ফরম সংগ্রহ করার সময় বিস্তারিত জেনে নিন।

২.সাইনবোর্ড ফি:
ট্রেড লাইসেন্স বই বা ফরম সংগ্রহ করার সময় সাইনবোর্ড ফি প্রদান করতে হবে।
অংশীদারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আরও প্রয়োজন:
*১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকার ষ্ট্যাম্পে অংশীদারগন কর্তৃক চুক্তি সম্পাদন।
*প্রত্যেক অংশীদারগন এর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।


৩.লাইসেন্স নবায়ন:
লাইসেন্স নবায়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
•    লাইসেন্স এর মেয়াদ ৫ বছর প্র লাইসেন্স ফি জমা।
•    নির্দিষ্ট ব্যাংকে লাইসেন্স ফি জমা দিলে আপনার লাইসেন্স নবায়ন হয়ে যাবে।

______________________________________________________________________

প্রচার ও বিপনন

পণ্য বা সেবার বাজার তৈরী করা
যেকোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা কাষ্টমার-এর কাছে তুলে ধরতে হয়| এ ব্যাপারে যতবেশী প্রচার করা যাবে ততবেশী কাষ্টমার এই পণ্য বা সেবার সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং ব্যবহারে আগ্রহী হবেন| পণ্য বা সেবা সমূহ থেকে তারা কিভাবে উপকৃত হতে পারবেন তা সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করা  যেতে পারে ।
যেকোন পণ্যের বা সেবার প্রচার এর জন্য নিম্নোক্ত ধাপসমূহ অনুসরন করতে হয়ঃ
বিভিন্ন ধরনের পন্য বা সেবার প্রচারের জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, যা আপনার পন্যের ব্যবহারকারী, ক্রেতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাথে আপনার যোগাযোগ স্থাপন করবে। বিপনন বা মার্কেটিং কয়েক ধরনের হতে পারে। যেমন:
১.ব্যক্তিগত বিক্রয়/সরাসরি বিপনন (Direct Marketing)
বিপননকারী নিজে ক্রেতা, গোষ্ঠী বা সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে গিয়ে মুখে পণ্য সম্পর্কে বিপনন চালালে তা হচ্ছে ব্যক্তিগত বিক্রয় বা পারসোনাল বা ডাইরেক্ট সেলিং।
২.জনসংযোগ (Publicity):
আপনার প্রতিষ্ঠান বা পণ্যের সুনাম অক্ষুন্ন ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তুলে ধরতে জনসংযোগ করতে হবে।
৩.বিজ্ঞাপন (Advertisement):
বিভিন্ন মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করা যায়। যেমন:
ব্রশিউর/ লিফলেট - একটি পাতায় পন্যের সম্পূর্ণ বর্ণনা লিখে তা বিলি করা যায়।
ফ্লায়ার/স্টীকার - একটি পাতায় পন্যের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা সমূহ গুলো লিখে তা বিলি করা যায়।
স্থানীয় ক্যাবল চ্যানেলে বিজ্ঞাপন - অল্প খরচে স্থানীয় ডিশ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করে ক্যাবল চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।
স্পন্সর - স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, খেলাধুলার টুর্নামেন্ট ইত্যাদি স্পন্সর করে আপনার পন্য বা প্রতিষ্ঠানের প্রচার চালাতে পারেন।


টিপস:
    নতুন ক্রেতা সবচেয়ে বেশী আকৃষ্ট হবে তখনই যখন আপনার পন্য বা সেবা সম্পর্কে জনগন আলোচনা করবে বা কথা বলবে। আপনার পন্য বা সেবার গুনগত মান ভাল হলে মানুষ পরস্পর এটা নিয়ে কথা বললে (Word of Mouth) নতুন ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে।
    শুধুমাত্র একটি বিপনন কৌশল বা প্রচার মাধ্যম যে সবসময় সবধরনের ব্যবসার ক্ষেত্রে ঠিকভাবে কাজ করবে তা ঠিক নয়। পালাক্রমে প্রচারের সকল মাধ্যম ব্যবহার করে দেখুন কোনটি কখন ভালো ফলাফল দেয়।
     ভেবে চিন্তে পরিকল্পনা গ্রহন করুন। ক্রেতাদের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে মতামত গ্রহন করুন এবং তার ভিত্তিতে আপনার কার্যপ্রণালী স্থির করুন।

িজাইনঃ


_____________________________________________________________________
প্রশিক্ষনঃ




'
 
   © 2017 এসএমই ডট কম ডট বিডি
If you cant see bangla then click here
কারিগরী তত্ত্বাবধানে: এমসিসি লিঃ